ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি পূরণ হওয়ার পর! উপাচার্যের পদত্যাগ ও প্রশাসনকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জামিয়ার শিক্ষার্থীদের
বাংলার জনরব ডেস্ক : ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা এখন উপাচার্য ও চিফ প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়েছে। কুড়ি বছর পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন জামিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এটা দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ছাত্রদের তা মেনে নেয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানানোর পর নতুন করে ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে উপাচার্য এবং চিফ প্রক্টরকে ইস্তফা দিতে হবে এবং প্রশাসনকে ছাত্র-ছাত্রীদের উপরে নির্যাতন করার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। এই দাবিতে নতুন করে জামিয়াতে আন্দোলন শুরু হয়েছে।
সোমবার থেকে জামিয়ার ছাত্র ছাত্রীরা এই দাবিতে অনশনে বসেছেন।২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে হিংসার জেরে জামিয়ার ছাত্র সংসদ (জেএমআইএসইউ) ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় দু’দশক পর সেই ছাত্র সংসদ পুনরায় চালুর দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে আন্দোলনে নামেন পড়ুয়ারা। রবিবার এই আন্দোলন ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। অনশনরত ও আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের জমায়েতের তাঁবু নিরাপত্তারক্ষীরা খুলে নিতে গেলে এবং তাঁদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক বচসা ও খণ্ডযুদ্ধ বাধে। এর জেরে ক্লাস বন্ধ করে দিয়ে পঠনপাঠন অনলাইনে করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ, ক্যাম্পাসে জলের সংযোগ কেটে দেওয়া হয় এবং গেট বন্ধ করে প্রবেশ ও প্রস্থানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তা সত্ত্বেও বিশাল পুলিশবাহিনীর মোতায়েনের মধ্যেই ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যায় জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়ারা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার রেজিস্ট্রার মহম্মদ মেহতাব আলম রিজ়ভি একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করেন। অনশনরত পড়ুয়া ও তাঁদের প্রতিনিধিদের দেওয়া দাবি-সনদ বিবেচনা করে সেখানে তিনটি মূল নির্দেশ দেওয়া হয়:
প্রথমত, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদিত হওয়ার ১৫ দিনের মাথায় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দ্বিতীয়ত, আন্দোলন চলাকালীন পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে জারি করা সাসপেনশন এবং শো-কজ় নোটিস প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
তৃতীয়ত, আন্দোলন চলাকালীন নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
তবে ওই নির্দেশিকায় একটি শর্তও যুক্ত করা হয়। সেখানে বলা হয়, আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অবমাননাকর মন্তব্য বা পোস্ট করা হয়েছে, তার জন্য আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা সাংবাদিক বৈঠক করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। সমাজমাধ্যম থেকে সেই সব পোস্ট অবিলম্বে মুছে ফেলতে হবে এবং কর্তৃপক্ষ এর উপর নজর রাখবেন। এই নির্দেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই আন্দোলন প্রত্যাহার করতে হবে।
রেজিস্ট্রারের এই বিজ্ঞপ্তির পরে পাল্টা চিঠি দিয়ে নির্দেশিকা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন জামিয়ার আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, ছাত্র সংসদ গঠনের দাবিগুলি এখনও সম্পূর্ণ ভাবে পূরণ করা হয়নি। প্রশাসনের সামনে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি রেখেছেন তাঁরা:
প্রথমত, আগামী ২০ ডিসেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে ছাত্র সংসদের সংবিধানের খসড়া তৈরি করে তা অনুমোদন করতে হবে এবং সংবিধান অনুমোদনের ১৫ দিনের মধ্যে ভোটের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, শুধু সাসপেনশন বা শো-কজ় নয়, আন্দোলনের জেরে জারি হওয়া ক্যাম্পাসে নিষেধাজ্ঞা (ক্যাম্পাস ব্যান) এবং বহিষ্কারের (রাস্টিকেশন) মতো সমস্ত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। ভবিষ্যতেও এ নিয়ে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার আইন বিভাগের পড়ুয়া এবিন বেসিলকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং তিন জনের ক্যাম্পাসে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে (চিফ সিকিউরিটি অ্যাডভাইজ়ার) ইস্তফা দিতে হবে।
চতুর্থত, শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের জন্য কোনও আন্দোলনকারী পড়ুয়াই ক্ষমা চাইবেন না।
পড়ুয়ারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অনশন এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন জারি থাকবে।

